চোখের জন্য পুষ্টিকর খাবার
চোখের জন্য পুষ্টিকর
খাবার
চোখ মানব শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। স্বাভাবিক চলাফেরা, শিক্ষাগ্রহণ, খাদ্যগ্রহণসহ জীবন চলার সব স্তরে চোখের প্রয়োজন অপরিসীম। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখা খুবই জরুরি। এমন অনেকেই আছেন যারা অল্পবয়সেই চোখের সমস্যায় ভোগেন।
চোখ মানব শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। স্বাভাবিক চলাফেরা, শিক্ষাগ্রহণ, খাদ্যগ্রহণসহ জীবন চলার সব স্তরে চোখের প্রয়োজন অপরিসীম। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখা খুবই জরুরি। এমন অনেকেই আছেন যারা অল্পবয়সেই চোখের সমস্যায় ভোগেন।
বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা
দেখা দিতে পারে আবার এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চশমা ব্যবহার করা হয়। পুষ্টির অভাবেও
কেউ দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি সর্দিকাশির কারণেও
দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে থাকে।
অথচ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক
রাখতে, চোখের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু বিশেষ খাবার আছে। চলুন তা হলে জেনে নিই,
চোখের সমস্যা দূরীকরণে বা দৃষ্টিশক্তির কার্যকারিতা বাড়ানোর উপযোগী কিছু খাবার সম্পর্কে।
ফুড প্লানিং অ্যান্ড
মনিটরিং ইউনিটের সহযোগী গবেষণা পরিচালক মোস্তফা ফারুক আল বান্না বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত
চোখ ধোয়া উচিত। চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাঁপটা দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। দিনে তিন-চার বার
পানির ঝাঁপটা দিয়ে চোখ ধুতে পারলে ভালো।
* দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে
আমলকীর জুস খান। বাজার থেকে টাটকা আমলকী কিনে এনে, জুস করে রোজ ২০ এমএল করে খান। এতে
দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। গোলমরিচের সঙ্গে মধুও খেতে পারেন। গোলমরিচের গুঁড়া
মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
* দুধের সঙ্গে যষ্টিমধু
মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। চা চামচের এক চামচ বা অর্ধেক চামচ যষ্টিমধুর গুঁড়া গরুর
দুধে মিশিয়ে দিনে দুবার করে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে হারানো দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই ফিরবে।
দুধ না থাকলে মধু বা ঘিয়ের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। একই ফল পাবেন। চোখের দৃষ্টি ভালো
রাখতে যষ্টিমধুর তুলনা নেই।
* দৃষ্টিশক্তি বাড়তে
বেশি করে আম খান। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় আম চোখের জন্য ভালো। প্রতি মৌসুমে বেশি বেশি
আম খান। চোখ ভালো থাকবে।
* গোলাপ পাপড়ির জুস
খান। তাজা গোলাপের পাপড়ির নির্যাস বের করে, জুসের মতো খেতে হবে। উপকার পাবেন। বাজার
থেকে কেনা ভালো গোলাপ জলও চোখে দিতে পারেন।
* দৃষ্টিশক্তি সতেজ
রাখতে দেশী সবুজ শাক নিয়মিত খান। সবুজ শাককে চোখ সুরক্ষার প্রধান খাদ্য ঘোষণা করলেও
বাড়িয়ে বলা হবে না। সবুজ শাক আমাদের চোখকে তীক্ষèতা বা ইউভি রশ্মির ক্ষতি হওয়া থেকে
বাঁচায়। আমাদের খাওয়ার টেবিলে প্রতিদিন শাক রাখা আবশ্যকীয়।
* ভুট্টা। লুটেইন
এবং জেক্সানথিনের অন্যতম উৎস হলো ভুট্টা, যা চোখ সুরক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই উপাদানগুলো
চোখের আয়ু ধরে রাখতে পারদর্শী। ভুট্টা সালাদ হিসেবে, রান্না করে বা কাঁচাও খাওয়া যেতে
পারে। দিনে কম করে ৫ গ্রাম ভুট্টা খেলে চোখের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।
* চোখের জন্য ছোট
মাছ। ওমেগা-৩ এ ভরপুর ছোটমাছ যেমন- টুনা মাছ বা পুঁটি মাছ আমাদের রেটিনাসহ নার্ভ সেলগুলোকে
শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।
* সারা বছরই পাওয়া
যায় এমন দুইটি ফল হল- কমলালেবু এবং মাল্টা। ভিটামিন-সিতে পরিপূর্ণ এই ফল দুইটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
থাকে অনেক। যা আমাদের কর্নিয়াকে সুরক্ষা করে এবং চোখে ছানি পড়া থেকে বাঁচায়।
* ডিম চোখের জন্য
উপকারী। ভিটামিন এ-এর প্রায় সব রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টই রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সক্ষম।
আর ডিমে এর সব অ্যান্টিঅক্সিডেন্টই কমবেশি থাকায় ডিমকেও ধরা যায় চোখের কার্যকারিতা
বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান হিসেবে।
* গাজর। গাজরে থাকে
বেটা-ক্যারোটিন। এটা ভিটামিন এ-এর একটি প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা রেটিনাকে খুবই
ভালো রাখে ফলে আমাদের চোখে ছানি পড়ার দুর্ভাবনা থাকে না। গবেষকরা বলেন, আমাদের প্রতি
সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার গাজর খাওয়া উচিত।
* চোখ আমাদের অমূল্য
সম্পদ। একজন অন্ধ লোক দেখলে সহজেই বুঝবেন চোখ মানুষের জন্য কতটা দরকারি। নিয়মিত চোখের
যত্ন নিন। চোখের জন্য পুষ্টিকর ও প্রয়োজনীয় খবার গ্রহণ করুন। সতেজ, সজীব ও সচল দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন
চোখ নিয়ে জীবনযাপন করুন।

No comments